কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার একটি হাওরে মাছ শিকার করতে গিয়ে বজ্রপাতে মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে আপন চাচা ও ভাতিজার। কিছুদিন আগে ১২ সেপ্টেম্বর ভোররাতের দিকে সুতারপাড়া ইউনিয়নের চংনোয়াগাঁও হাওরে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ভোরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেই তারা বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তারা প্রাণ হারান এবং পানিতে তলিয়ে যান।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে শাহ আলম (৩৮) স্থানীয় এলাকার মৃত ইসহাক মিয়ার সন্তান এবং মোকাররম হোসেন (২৪) একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে। পেশাগতভাবে শাহ আলম নৌকায় ধান পরিবহনের শ্রমিকের কাজ করতেন। অন্যদিকে মোকাররম রাজধানী ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন এবং সম্প্রতি ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। হঠাৎ এমন আকস্মিক মৃত্যুতে তাদের পরিবার ও গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরে জাল হাতে নিয়ে বাড়ির কাছের হাওরে মাছ ধরতে যান ওই দুজন। কিছু সময় পর হালকা বৃষ্টির সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত শুরু হয় এবং বজ্রাঘাতে তারা হাওরের পানিতে পড়ে যান। সকাল গড়িয়ে দুপুর হওয়ার পথেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যদের মাঝে গভীর উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। পরবর্তীতে সকালের দিকে স্বজনরা তাদের খোঁজে হাওরে গিয়ে তল্লাশি শুরু করেন।
একপর্যায়ে হাওরের হাঁটুপানির মধ্যে দুজনের নিথর দেহ ভেসে থাকতে দেখেন পরিবারের লোকজন। খবরটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান যে, বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই আকস্মিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মরদেহগুলো তাদের স্বজনদের বাড়িতে রাখা হয়েছে।