দেশে হাম ও এর উপসর্গজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দেশজুড়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও আটটি শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত হামজনিত বিভিন্ন জটিলতায় প্রাণহানির মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০ জনে। স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে দেশব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নির্দিষ্ট ওই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে নিশ্চিত হওয়া হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে সন্দেহভাজন হামের উপসর্গ নিয়ে একই দিনে আটজন শিশুর প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত ১৫ মার্চ থেকে দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই নিয়মিত বিরতিতে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে চলেছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
নতুন রোগীর সংক্রমণের চিত্র তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ৫৫ জন নতুন করে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি, একই সময়সীমায় সন্দেহজনক হামের রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও এক হাজার ১৭৭ জন। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত দেশব্যাপী মোট শনাক্ত হওয়া সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৭২ হাজার ৭২০ জনে পৌঁছেছে এবং পরীক্ষিত নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ১২৪ জনে।
বিভাগওয়ারੀ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকা বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব ও প্রাণহানির হার সবচেয়ে বেশি। এখন পর্যন্ত শুধু ঢাকা বিভাগেই নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৩ জন শিশু। এছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেট ও রাজশাহীতে তিনজন করে এবং ময়মনসিংহে দুজন মারা গেছেন। অন্যদিকে, সন্দেহজনক হামের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগেই সবচেয়ে বেশি ৪১৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।