বিনোদন ডেস্ক:
জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেতা ও নির্মাতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ পরিবারের তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও জানমালের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন একই পরিবারের চার বোন।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে গণমাধ্যমের সামনে এসে তারা জানান, ৪০ বছর ধরে তারা বাবার সম্পত্তি থেকে প্রাপ্য অংশ পাচ্ছেন না, অথচ বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাসের মাধ্যমে শুধু সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।
বোনদের দাবি, তাদের বাবা মারা যাওয়ার পর ভাইয়েরা সম্পূর্ণ সম্পত্তি নিজেদের দখলে রেখে ভোগ করছেন। কিন্তু বোনদের অংশ তারা কখনোই বুঝে দেননি। বহু বছর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত তারা আদালতে আশ্রয় নেন। তাদের দাবিমতে, আদালত তাদের পক্ষে স্টে–অর্ডার বা নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে এই রায় কার্যকর করতে গেলে তারা আরও বেশি হুমকি ও চাপের মুখে পড়ে যান।
বোনেরা গণমাধ্যমকে বলেন,আমার বাবা মারা গেছেন ৪০ বছর। এই সময়ের মধ্যে একদিনও আমাদের ভাইয়েরা আমাদের সম্পত্তির বিষয়ে আমাদের সাথে বসেনি। শুধু বলেছে, দিচ্ছি, দিয়েই দেব, কিন্তু কখনও দেয়নি। এখন জানতে পারছি আমাদের সম্পত্তি নাকি গোপনে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, সম্পত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুললেই হুমকি দেওয়া হয়, ভয় দেখানো হয় এবং সামাজিক ও পারিবারিকভাবে অপমানিত হতে হয়। যদি সম্পদ চাই,তাহলে স্বামী পাবো না। স্বামী না থাকলে সম্পদ নিয়ে কাকে খাওয়াবো! এমন অপমানজনক কথা বহুবার শুনেছি। ডিপজলসহ দুই ভাইয়ের অনেক প্রভাবশালী পরিচিতি থাকায় তারা সাধারণভাবে প্রতিরোধ করার সাহস পাচ্ছিলেন না। পরিবারের ভেতরে যে কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে একঘরে করে রাখার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতো।
তাদের দাবি, এ ধরনের হুমকিতে তাদের সামাজিক–পারিবারিক জীবনে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমনকি কয়েকবার শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কাও সৃষ্টি হয়েছে।
এক বোন বলেন, তার সন্তান ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু সে সময় ভাইদের কেউই সাহায্য করেননি বা পাশে দাঁড়াননি। আমরা ভাইদের কাছে শুধু অধিকার চেয়েছি। কিন্তু তারা কোনোদিন গুরুত্ব দেয়নি। বরং এখন শুনছি সম্পত্তি নাকি প্যাকেজ আকারে বিক্রি করে দিচ্ছে। তাহলে আমাদের প্রাপ্য অংশ কই?
বোনদের দাবি,আমরা আদালতের রায় পেয়েছি, তবু ভয়ে কার্যকর করতে পারছি না। আদালতে যাওয়ার পর তারা তাদের অধিকারের পক্ষে আদেশ পেয়েছেন। তবে আদেশ কার্যকর করা যে সহজ নয়—তা তারা স্পষ্ট বুঝতে পারছেন। তাদের দাবি, সম্পত্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর হুমকি–ধমকি আরও বেড়ে গেছে।