বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সময়টা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জাতির জীবনে ক্রান্তিকালের মতো। আমরা যদি ফেল করি, সুষ্ঠু গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে না পারি, তাহলে আমরা জাতিগত ফেল করব। আমাদের সাবধানে পা ফেলতে হবে। কোনো প্রভুর পেছনে পা ফেললে চলবে না।
আজ রোববার সন্ধ্যায় সিলেটে ব্যক্তিগত সফর শেষে বিমানবন্দর এলাকার একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা আগে বলত এটা না, সেটা না হলে নির্বাচন করবে না– তারাও আজ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। মনে রাখতে হবে, এটা অন্তর্বর্তী সরকার। তারা অনেক কিছু করতে পারবে না, আবার সংস্কার ও জুলাই সনদ নিয়ে যে কাজ করেছে, তা আগামী বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছি। এ সময়ে বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে। ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ইলিয়াস আলীসহ ১ হাজার ৭০০ নেতাকর্মীকে গুম করা হয়েছে। সারাদেশে একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। জুলাই আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি, শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গণভোট আমরা চেয়েছিলাম। জনগণ তার মতামত প্রকাশ করবে। যে বিষয়ের ওপর আমরা একমত হয়েছিলাম তাতে স্পষ্ট ছিল।
মহাসচিব বলেন, খালেদা জিয়া পুরোটা জীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তাঁর চলে যাওয়াটা রাজকীয়। দেশের মানুষ যে কতটা ভালোবাসত প্রমাণ হয়েছে তাঁর জানাজায়। তিনি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছিলেন। আমরা যেন সেটা উপহার দিতে পারি।
সিলেট থেকে তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। পাশাপাশি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দু-এক দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান করার কথাও জানিয়েছেন মহাসচিব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরিফুল হক চৌধুরী, খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, ড. এনামুল হক চৌধুরী, এম এ মালিক, মিফতাহ সিদ্দিকী, আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, এমরান আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।