দু-এক দিনের মধ্যে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ ১১ দলের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকায় নিজ কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার না হলে বুধবারের মধ্যে আসন সমঝোতা হয়ে যাবে। সবার সামনে ১১ দল একসঙ্গে আসবে।
‘নির্বাচন থেকে সরে যেতে পারে’– একটি সংবাদপত্রের এ খবরের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই। এবারের নির্বাচন হাতছাড়া হলে এ জাতিকে অনেক মূল্য দিতে হবে। ভোটারদের মতামত প্রতিফলিত হোক নির্বাচনে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, জামায়াত নির্বাচিত হলে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক থাকবে। বিশেষ কোনো দেশের প্রতি ঝুঁকে পড়বে না। ক্ষমতায় গেলে বিশ্বের শান্তিকামী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রাখবে জামায়াত।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, দেশ ও সংস্কারের স্বার্থে হ্যাঁ ভোটকে বিজয়ী করতে হবে।
গত তিন নির্বাচনে ইইউ পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। এবার ইউরোপীয় জোটটি পর্যবেক্ষক পাঠাবে। জামায়াত আমির বলেছেন, ইইউ ২০০ পর্যবেক্ষক পাঠাবে বলে জানিয়েছে। জেলা ও সিটি করপোরেশন এলাকায় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবে।
প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচনী লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলে শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা মনে করি তারা বদলাবেন। অন্যথায় তাদের বদলাতে বাধ্য করা হবে। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে ইইউ মিশনের প্রধান নির্বাচনী পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস আইজাবস জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। দলটির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে তাদের আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার আলোচনাও হয় এ বৈঠকে।
চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
গতকাল সকালে বসুন্ধরা কার্যালয়ে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ড. যুবায়ের আহমেদ, উন্নয়ন টিম লিড দেওয়ান আলমগীর, জামায়াতের আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহমুদুল হাসান।
আরও ছিলেন ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ড. লিউ ইউইন, রাজনৈতিক পরিচালক ঝাং জিং এবং রু কি।