March 27, 2026, 7:05 pm

বাংলাদেশসহ সব কর্মীদের বড় দুঃসংবাদ দিল মালয়েশিয়া

Reporter Name
  • Update Time : Friday, March 27, 2026
  • 6 Time View

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। এবার বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে কঠোর নীতি ঘোষণা করেছে দেশটি। এর ফলে বাংলাদেশিসহ লাখ লাখ প্রবাসী শ্রমিকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১ জুন থেকে বিদেশি কর্মীদের ‘এমপ্লয়মেন্ট পাস’ পেতে ন্যূনতম বেতন সীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হচ্ছে। এর ফলে অনেক নিয়োগকর্তার পক্ষে বিদেশি কর্মীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

সরকারের ২০২৫ সালের জাতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটির মোট শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশের বেশি বিদেশি কর্মী। এই হার ২০৩৫ সালের মধ্যে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত স্থানীয়দের জন্য বেশি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন নীতিমালায় বিদেশি পেশাজীবীদের তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ক্যাটাগরি-১-এর ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাসিক বেতন ১০ হাজার রিঙ্গিত থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার রিঙ্গিত করা হয়েছে, এবং তারা সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকার সুযোগ পাবেন। ক্যাটাগরি-২-এ বেতনসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার থেকে ১৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত পর্যন্ত, যাদের ক্ষেত্রেও ১০ বছর পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগ থাকবে।

সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে ক্যাটাগরি-৩-এর কর্মীদের ওপর। আগে যেখানে ৫ হাজার রিঙ্গিত বেতনেই কাজের অনুমতি মিলত, এখন তা বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অবস্থানের সময়সীমা কমিয়ে মাত্র ৫ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় শেষে নিয়োগকর্তাদের স্থানীয় কর্মী নিয়োগে বাধ্যতামূলক পরিকল্পনা থাকতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রায় ৮ লাখ বৈধ বাংলাদেশি এবং কয়েক লাখ অবৈধ কর্মী সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই উচ্চ বেতন প্রদান সম্ভব না হওয়ায় তারা বিদেশি কর্মীদের পরিবর্তে স্থানীয়দের নিয়োগ দিতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক-এর তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স আয়ের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের চতুর্থ শীর্ষ উৎস। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটি থেকে ২৮০ কোটি ৪৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। ফলে বিপুল সংখ্যক কর্মী দেশে ফিরে এলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশ সরকারকে বিকল্প শ্রমবাজার খোঁজার জন্য দ্রুত কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। অন্যথায়, আগামী বছরগুলোতে প্রবাসী কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com