এনসিপি ও পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ একসাথে থাকতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, যেই জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম শুরু হবে, সেই জেলায় হয় আওয়ামী লীগ থাকবে, নয়তো এনসিপি থাকবে। আমরা নানাভাবে দেখতে পাচ্ছি ফ্যাসিস্টদের আস্ফালন চট্টগ্রামে কমে নাই।
আজ সোমবার (২ মার্চ) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশে দ্য কিং অব চিটাগাং-এ আয়োজিত এনসিপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘কোনো অঞ্চলে যদি এনসিপির ১০ জন নেতাকর্মীও থাকে, সেই অঞ্চলে নিষিদ্ধ ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কিংবা অফিস খোলার সুযোগ কোনোভাবেই যাতে না পায়, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। এ দেশের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শহীদরা এই দায়িত্ব আপনাদেরকে দিয়েছে।
আদালত স্বাধীনভাবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন করবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আমাদের আহ্বান থাকবে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করে সরকার এবং নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হবে।
ঢাকা-১১ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। বিচার সংস্কার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম নতুন করে শুরু করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের যে গণরায়ের ভিত্তিতে এই সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রায়কে বাতিল করতে আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। আদালতকে আবারও দলীয়করণের চেষ্টা হচ্ছে।
দখলবাজ ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়ে এনসিপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শ্রমজীবী মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, যেটা জাতীয় নির্বাচনে আমরা পারিনি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ফলাফলের মাধ্যমে আমরা সেটা করে দেখাতে চাই। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি অংশগ্রহণ করবে, আপনারা সেটার জন্য প্রস্তুতি নেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।