August 17, 2026, 6:07 am
Title :
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি ছাত্রকে অবরুদ্ধ করে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’, প্রভোস্ট বললেন ‘নাস্তা করিয়েছি’ তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না: হাইকোর্ট নরসিংদী জেল ভেঙে পালানো জঙ্গি জুয়েল বোমাসহ গ্রেফতার মুখে নয়, জনগণের সামনে দেয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে বাংলাদেশ অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ: সংস্কৃতিমন্ত্রী অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন

আর্জেন্টিনাকে ধসিয়ে যেভাবে বিশ্বকাপ জিতল তারুণ্যনির্ভর স্পেন

Reporter Name
  • Update Time : Monday, July 20, 2026
  • 30 Time View

নিউজার্সিতে আর্জেন্টিনাকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ও হতাশ করে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করেছে ‘লা রোজা’রা।

৩৪ দিন আগে, নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের হতাশা দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্পেন। তবে রোববার (১৯ জুলাই) নিউজার্সির ফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ঠিকই তাদের হাতে উঠেছে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের তরুণ দলটি টুর্নামেন্ট গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে দুর্দান্ত উন্নতি করেছে। নকআউট পর্বগুলোতে ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে স্পেন মাত্র একটি গোল হজম করেছে এবং নিজেদের অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখেছে, যা এখন অবিশ্বাস্যভাবে ৩৮ ম্যাচে গিয়ে ঠেকেছে।

ফাইনালে লা রোজাদের দুর্দান্ত আধিপত্যের মাধ্যমেই এই সাফল্যের চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। পুরো ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার আক্রমণের সব ধার ভোঁতা করে দিয়েছিল তারা।

স্পেন কীভাবে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করল, চলুন দেখে নেওয়া যাক:

তরুণদের জয়জয়কার

এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি দলের মধ্যে স্পেনের স্কোয়াডটি ছিল ষষ্ঠ কনিষ্ঠ। দলের গড় বয়স মাত্র ২৬.১৯ বছর এবং ত্রিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় ছিলেন মাত্র ছয়জন।

উদাহরণস্বরূপ, ব্রাজিলের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়—তাদের স্কোয়াডে ত্রিশোর্ধ্ব খেলোয়াড় ছিলেন ১১ জন এবং গড় বয়স ছিল ২৮.৬৫ বছর।

লা রোজা নিশ্চিতভাবেই অভিজ্ঞতার চেয়ে তারুণ্যকে বেছে নিয়েছিল এবং সিদ্ধান্তটি একেবারে সঠিক ছিল। তাদের সেরা খেলোয়াড়দের কয়েকজনের বয়স ২০-এর নিচে; পাউ কুবারসি ও লামিন ইয়ামাল দুজনেরই বয়স ১৯। ফাইনালে জয়সূচক গোলে সহায়তা করা নিকো উইলিয়ামসের বয়স ২৪, অন্যদিকে বার্সেলোনার মিডফিল্ডার পেদ্রির বয়স ২৩।

ধীরগতির শুরু

জুনের মাঝামাঝি আটলান্টায় নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছিল স্পেন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা সেদিন আফ্রিকান দলটির রক্ষণভাগ ও তাদের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনহার দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয়; ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হয়।

এটি ছিল বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর ফলাফল। এই ড্রয়ের পর টুর্নামেন্টে স্পেনের সম্ভাবনা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন। তবে সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে দিয়ে স্পেন নিজেদের পরের গ্রুপ ম্যাচে সৌদি আরবকে অনায়াসে হারায় এবং গুয়াদালাখারায় উরুগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করে।

চ্যাম্পিয়নরা তাদের শেষ ৩২-এর ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে সহজেই পার হয়। তবে পরের দুটি নকআউট ম্যাচ জেতার জন্য তাদের আসল মানসিক দৃঢ়তা ও লড়াইয়ের প্রয়োজন হয়েছিল।

সুপার-সাব

পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে স্পেনের হয়ে শেষ মুহূর্তের জয়সূচক গোলগুলো করেন মিকেল মেরিনো, যা লা রোজাদের সেমিফাইনালের টিকিট এনে দেয়।

ইয়ামালের ওপর অতি-নির্ভরশীলতা নয়

কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষে স্পেনের ২-১ গোলের জয়ের ম্যাচটিতেও টুর্নামেন্টের অন্য অনেক ম্যাচের মতো ইয়ামাল গোল পেতে ব্যর্থ হন। ম্যাচ শেষে এই কিশোরকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, স্পেন যদি ট্রফি জেতে, তবে আমি গোল করেছি কিনা, তা কেউ মনে রাখবে না।

তার কথাই সত্যি হয়েছে।

উত্তর আমেরিকায় স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ পাঁচটি গোল করেছেন মিকেল ওয়ারজাবাল, পাশাপাশি দলের অন্যরাও দারুণ অবদান রেখেছেন। মিকেল মেরিনো ও পেদ্রো পোরো দুজনেই দুটি করে গোল করেন এবং ফেরান তোরেস ফাইনালে সেই মহামূল্যবান গোলটি করেন যা স্পেনকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছে।

মাত্র একটি গোল এবং কোনো অ্যাসিস্ট না থাকা সত্ত্বেও এই টুর্নামেন্টে লা রোজাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিলেন ইয়ামাল। তিনি প্রতিটি ম্যাচেই খেলেছেন এবং শেষ আটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন। এরপর ডালাসে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে পেনাল্টি আদায় করে নেন তিনি, যা থেকে স্পেন প্রথম গোলটি পায়।

সেমিফাইনালে স্পেনের জ্বলে ওঠা

প্রথম তিনটি নকআউট ম্যাচ সহজে জেতার পর ফ্রান্সকেই এই টুর্নামেন্টের সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ভাবা হচ্ছিল, তবে স্পেনের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন।

কোচ দে লা ফুয়েন্তে ফরাসিদের বিপক্ষে সেমিফাইনালে এক দুর্দান্ত ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস দেখান। ২-০ গোলের দারুণ জয়ে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগের সব হুমকি নস্যাৎ করে দেন তিনি।

দানি ওলমো, রদ্রি ও ফাবিয়ান রুইজকে নিয়ে গড়া স্পেনের মিডফিল্ড পজিশন ধরে রাখে এবং কিকঅফ থেকেই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে। মিডফিল্ডে তাদের এই আধিপত্যের কারণে ফ্রান্স তাদের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও মাইকেল ওলিসির মতো ভয়ংকর ফরোয়ার্ডদের বল জোগান দিতে ব্যর্থ হয়।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এগিয়ে গিয়ে এবং দ্বিতীয় গোলের জন্য ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দেয় লা রোজা। তারা ফ্রান্সকে কখনোই ম্যাচে থিতু হতে দেয়নি; বরং পেনাল্টি বক্সের অনেক দূর থেকে এলোমেলো শট নিতে বাধ্য করেছে।

ফাইনালে একক আধিপত্য

রোববারের ফাইনালেও স্পেন তাদের একই শুরুর একাদশ ধরে রেখেছিল এবং তাদের দোষ দেওয়ারও কিছু নেই। সেমিফাইনালের একই কৌশল অবলম্বন করে তারা বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে এবং প্রতিপক্ষকে হতাশ করে।

১২০ মিনিটের ফুটবলে আর্জেন্টিনাকে মাত্র দুটি শট নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার একটিও লক্ষ্যে ছিল না। স্পেন ৬৫ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রাখে এবং দক্ষিণ আমেরিকান দলটিকে মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে।

দ্বিতীয়ার্ধের স্টপেজ টাইমে আর্জেন্টিনার হতাশা চরমে পৌঁছায়। এ সময় এনজো ফার্নান্দেজ দেরি করে কুবারসিকে মারাত্মক ফাউল করে বসেন। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে শূন্যে ভাসিয়ে দেওয়া এই ট্যাকলের জন্য দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন তিনি।

পেদ্রি, উইলিয়ামস এবং তোরেসের মতো খেলোয়াড়দের বদলি হিসেবে মাঠে নামানো স্পেন তাদের আধিপত্য বজায় রাখে। অবশেষে ১০৬তম মিনিটে সেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্যটি আসে, তোরেসের জোরালো শট জালের ছাদ কাঁপিয়ে দেয়।

স্পেনের সামনে কি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ?

বিশ্ব ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের একটি দুর্দান্ত তরুণ স্কোয়াড রয়েছে এবং আগামী বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তারা আধিপত্য বিস্তার করতে প্রস্তুত। দলের অনেক খেলোয়াড়ই এখনো নিজেদের সেরা ফর্মে পৌঁছাননি। আগামী চার বছর পর ঘরের মাঠের বিশ্বকাপসহ আরও অনেক টুর্নামেন্টের সাফল্যের দিকে নিশ্চয়ই তাদের চোখ থাকবে।

২০৩০ সাল নাগাদ ইয়ামাল, কুবারসি, পেদ্রি এবং উইলিয়ামসের মতো তারকারা তাদের ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে থাকবেন। এছাড়া ইউরোপের গ্রীষ্মকালীন গরমের মধ্যে স্পেনের বল দখলের কৌশল নিশ্চিতভাবেই তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে।

আগামী দুই বছর পর যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপেও নিজেদের শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী থাকবে তারা। দে লা ফুয়েন্তে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন এবং এই স্প্যানিশ ম্যানেজারের অধীনে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আরও বড় সাফল্যের অপেক্ষায় রয়েছে স্পেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com