August 17, 2026, 6:06 am
Title :
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি ছাত্রকে অবরুদ্ধ করে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’, প্রভোস্ট বললেন ‘নাস্তা করিয়েছি’ তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না: হাইকোর্ট নরসিংদী জেল ভেঙে পালানো জঙ্গি জুয়েল বোমাসহ গ্রেফতার মুখে নয়, জনগণের সামনে দেয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে বাংলাদেশ অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ: সংস্কৃতিমন্ত্রী অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন

আর্জেন্টিনার কৌশলেই মেসির স্বপ্নভঙ্গ, ১৯ বছরেই ‘ফুটবলের ষোলোকলা পূর্ণ’ ইয়ামালের

Reporter Name
  • Update Time : Monday, July 20, 2026
  • 47 Time View

বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে স্পেনের দুর্দান্ত তরুণ লামিন ইয়ামাল যখন অশ্রুসিক্ত লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরেন, দৃশ্যটি ছিল দারুণ প্রতীকী। যেন এক প্রজন্মের কাছ থেকে আরেক প্রজন্মের হাতে মশাল হস্তান্তর।
৩৯ বছর বয়সি মেসি নিউইয়র্ক-নিউজার্সি স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ঠাসা আর্জেন্টিনার সমর্থকদের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলেন, যারা তখনো তার নামে গান গাইছিল। হয়তো ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এটাই তার শেষ উপস্থিতি। আর গোটা বিশ্বের সামনে, হতাশ আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে আসেন সেই লামিন ইয়ামাল, এরপর দুজন একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। বার্সেলোনার বর্তমান ১০ নম্বর জার্সিধারী জড়িয়ে ধরেছেন তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কিংবদন্তি ১০ নম্বরকে।

দৃশ্যটি ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরের সেই বিখ্যাত ছবির চেয়ে একেবারেই ভিন্ন, যেখানে ২০ বছর বয়সি মেসি ৬ মাসের এক শিশুকে (ইয়ামাল) গোসল করাচ্ছিলেন। এই ম্যাচের আগে দাতব্য ক্যালেন্ডারের সেই ছবি আবারও ভাইরাল হয়েছিল। সেই ছোট্ট শিশুটি আজ পূর্ণাঙ্গ পুরুষ, আর মেসি হয়তো তার বিশ্বকাপ যাত্রার একেবারেই শেষ প্রান্তে।

মেসির চেয়ে দুই দশকের ছোট এবং ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুতে থাকা লামিন ইয়ামাল বিশ্বকাপ জিতে আক্ষরিক অর্থেই আন্তর্জাতিক ফুটবলের ষোলোকলা পূর্ণ করেছেন। স্পেনের হয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো জেতার ঠিক দুই বছর পর এই কীর্তি গড়লেন তিনি। মেসির মতোই বার্সেলোনার একাডেমি থেকে উঠে আসা এই তরুণ হ্যামস্ট্রিং চোট নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও, শেষ করেছেন সবচেয়ে কম বয়সি খেলোয়াড় (১৯ বছর ৬ দিন) হিসেবে বিশ্বকাপ ও ইউরো—উভয় শিরোপা জয়ের রেকর্ড গড়ে।

এই হতাশাজনক বিশ্বকাপ ফাইনালের অন্যতম প্রধান দিক ছিল স্প্যানিশ সতীর্থদের নান্দনিক ফুটবল কৌশলের কারণে ইয়ামালের প্রভাব কীভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার উসকানিমূলক কৌশলের কারণে মেসি কীভাবে নিজের দলের কাছেই ‘প্রতারিত’ হয়েছেন। এই কৌশলে আর্জেন্টিনার কোনো লাভ হয়নি, আর সেটাই তাদের প্রাপ্য ছিল।

পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেন এবং লামিন ইয়ামাল নিজেদের এমনভাবে পরিণত করেছেন যে, এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব তার পদতলে এবং ফুটবলের সবচেয়ে বড় দুটি শিরোপা তার পকেটে। ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভার পাশাপাশি তিনি স্পেনের জন্য এক ‘লাকি চার্ম’ বা সৌভাগ্যের প্রতীকও বটে। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের নির্ণায়ক গোলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের আধিপত্যের পূর্ণতা দেয় স্পেন।

দেশের হয়ে খেলা ২৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ইয়ামাল এখনো হারের মুখ দেখেননি। বড় টুর্নামেন্টগুলোতে তিনি ১৩টি ম্যাচে মূল একাদশে থেকেছেন এবং সবকটিতেই জিতেছেন। মূল একাদশে থেকে ইউরোপিয়ান খেলোয়াড়দের মধ্যে এটি ১০০ শতাংশ জয়ের দীর্ঘতম রেকর্ড। ১৯ বছর বয়সি স্প্যানিশ সতীর্থ পাউ কুবারসির পাশাপাশি তিনি চতুর্থ ও পঞ্চম টিনএজার হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মূল একাদশে থেকে শিরোপা জেতার কীর্তি গড়েন। এর আগে ১৯৫৮ সালে ব্রাজিলের পেলে, ১৯৮২ সালে ইতালির জিউসেপ্পে বার্গোমি এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে এই কীর্তি গড়েছিলেন।

স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ম্যাচ শেষে ইয়ামালের প্রতি ‘আন্তরিক কৃতজ্ঞতা’ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সে যে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছে, তা তাকে আরও পরিণত হতে এবং এখনকার চেয়েও বড় মাপের ফুটবলার হতে সাহায্য করবে। সে দলের স্বার্থে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছে। আমার দলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে, সে অসাধারণ একটি বিশ্বকাপ কাটিয়েছে।

এটি কেবল একটি বিশেষ প্রতিভা নয়, বরং বিশেষ মেজাজের এক বিশেষ প্রতিভা। বিশেষ করে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো যখন বারবার তাকে কড়া ট্যাকল করছিলেন, তখন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের ভয় দেখানোর সুস্পষ্ট চেষ্টাগুলো হাসিমুখেই উড়িয়ে দিয়েছেন ইয়ামাল।

ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক ও বিবিসি স্পোর্টসের বিশ্লেষক জো হার্ট বিষয়টি দারুণভাবে তুলে ধরেছেন। লামিন ইয়ামাল শুধু যে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি, তা নয়, তিনি বলেন, সে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে। সে ঘাবড়ে যায়নি বা পিছিয়েও আসেনি। পুরো দল তাকে আঘাত করার চেষ্টা করছিল। কিন্তু সে খুব শান্ত ছিল। এটি তার তরফ থেকে সত্যিই এক অসাধারণ পারফরম্যান্স। লামিন ইয়ামালের বয়স মাত্র ১৯। তার জন্য কী চমৎকার একটি দিন! ১৯ বছর বয়সেই সে ফুটবলকে পূর্ণতা দিয়েছে।

পুরো ক্যারিয়ার সামনে পড়ে আছে, আর অধিনায়ক রদ্রি (যিনি টুর্নামেন্টসেরাও হয়েছেন)-র মতো সতীর্থদের অভিজ্ঞতা ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে ইয়ামাল তার ক্যারিয়ার শেষ করার আগে এমন আরও অনেক সাফল্য যুক্ত করবেন, সেই সম্ভাবনাই প্রবল।

আর্জেন্টিনার কৌশলে মেসির বিশ্বকাপ-আশার সমাধি

লামিন ইয়ামালের আনন্দ উদ্‌যাপনের ঠিক বিপরীত চিত্র ছিল মেসির চোখেমুখে। আর্জেন্টিনার বিশাল সমর্থকগোষ্ঠীর দিকে তাকিয়ে তাকে হৃদয়ভাঙা দেখাচ্ছিল। হয়তো তিনি বুঝতে পারছিলেন, বিশ্বকাপে এমন ভালোবাসা পাওয়ার সুযোগ এটাই শেষ।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতার চেষ্টায় থাকা আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে যখন প্রশ্ন করা হয়, কিংবদন্তি এই ফরোয়ার্ডের এটাই শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ কিনা—তখন তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে দেখা যায় তাকে। স্কালোনি জানান, তিনি মেসির সঙ্গে কথা বলেননি। এরপর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং সংবাদ সম্মেলন ছেড়ে চলে যান।

প্রায় প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণাত্মক ও দ্বান্দ্বিক কৌশল মেসির জন্য কোনো কাজেই আসেনি; বরং দলের অনুপ্রেরণা ও নেতাকে পুরো ম্যাচে একপ্রকার দর্শক বানিয়ে রেখেছিল। স্পেনের এই জয় ছিল মূলত ফুটবলের জয়। কারণ, প্রথম থেকেই আর্জেন্টিনা ফুটবল ছাড়া অন্য সব কিছুতেই বেশি মনোযোগ দিয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com