২০২৬ বিশ্বকাপের মেগাফাইনালের কয়েক ঘণ্টা বাকি। একদিকে তরুণ প্রতিভায় উদ্ভাসিত স্পেন, অন্যদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। এই দুই দলের মহারণকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে যখন উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই বর্তমান স্প্যানিশ দলকে এক গুরুগম্ভীর সতর্কবার্তা দিলেন ২০১০ সালে স্পেনকে বিশ্বকাপ জেতানো কিংবদন্তি কোচ ভিসেন্তে দেল বস্ক।
স্প্যানিশ দৈনিক সংবাদমাধ্যম এল পাইসে লেখা এক কলামে ৭৫ বছর বয়সী ভিসেন্তে দেল বস্ক আর্জেন্টিনাকে শুধু দক্ষ দল নয়, বরং ‘ভীষণ চতুর’ প্রতিপক্ষ হিসেবে অভিহিত করেছেন। স্পেনের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের মতে, ফাইনালে জয়ের জন্য শুধু ভালো খেললেই হবে না, লিওনেল মেসিদের মানসিকতার সঙ্গে পাল্লা দেওয়াটাই হবে স্পেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দেল বস্ক মনে করেন, আর্জেন্টিনার শক্তি কেবল তাদের পায়ের জাদুতে নয়, বরং মাঠের পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতায়। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি স্পেনই জিতবে। তবে আর্জেন্টিনার অনিশ্চিত খেলার ধরন এবং তাদের গভীর অভিজ্ঞতার ব্যাপারে আমাদের ছেলেদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। তারা সত্যিই ভীষণ চতুর দল। তারা খুব ভালো করেই জানে ম্যাচ কীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয় এবং কোন মুহূর্তে আক্রমণ শানাতে হয়।’
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পরও আর্জেন্টিনা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা দেল বস্ককে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, ‘খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসার এই যে অদম্য জেদ, এটাই আর্জেন্টিনার মূল শক্তি। তারা জানে কীভাবে লড়াই করতে হয়।’
বর্তমান স্পেন দল তরুণ এবং গতিময়। তবে দেল বস্ক মনে করেন, নকআউট পর্বের চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে আর্জেন্টিনার মতো অভিজ্ঞ এবং ‘চালাক’ দলের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা স্পেনের তরুণদের নেই। তিনি স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই কোনো না কোনো সময় আর্জেন্টাইন সতীর্থদের সঙ্গে খেলেছি, তাই আমরা জানি তারা কতটা কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বী। তাদের লড়াকু মানসিকতার কোনো বিকল্প নেই।’
ফাইনাল নিয়ে কোনো আগাম ভবিষ্যদ্বাণী না করে দেল বস্ক ফুটবলের চিরাচরিত অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘ফুটবলের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্যই হলো এর অনিশ্চয়তা। এই রবিবার মেটলাইফে কী ঘটবে, তা আমরা কেউই জানি না। মাঠের লড়াইটাই সব নির্ধারণ করবে।’
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখার লড়াইয়ে মেসিদের ‘চাতুর্য’ আর স্পেনের ‘তারুণ্য’—কোচ দেল বস্কের এই সতর্কবার্তা কি রোববার রাতে নতুন কোনো ইতিহাসের জন্ম দেবে? সেই প্রশ্নের উত্তরের অপেক্ষায় এখন পুরো বিশ্ব।