সরকারি একটি নতুন মূল্যায়ন জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে বাংলাদেশের অতিরিক্ত প্রয়োজন পড়বে প্রায় ৪২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকার এক হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘ন্যাশনাল ভ্যালিডেশন ওয়ার্কশপ অন ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স অ্যাসেসমেন্ট (ডিএফএ) অ্যান্ড এসডিজি ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়; কর্মশালাটি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও বাংলাদেশের জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়। ডিএফএ বা উন্নয়ন অর্থায়ন মূল্যায়ন এমন একটি বিশ্বব্যাপী কাঠামো, যা জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে অর্থায়ন নীতি, প্রতিষ্ঠান ও অর্থপ্রবাহকে মিলিয়ে কাজ করতে সহায়তা করে।
ইআরডি সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী কর্মশালায় বলেছিলেন, আগামী সময়টা এসডিজি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং — অর্থায়নের ঘাটতি বড়, সময় সীমিত এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতি অনিশ্চিত। তবু তিনি যোগ করেন যে সঠিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ, সমন্বিত উদ্যোগ, সুশাসন ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারে। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক ও ইউএনডিপির ডেপুটি রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সোনালি দয়ারত্নে উভয়ে দুর্বল আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও সংকুচিত সুযোগের প্রেক্ষিতে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির মাধ্যমে ভৃত্য সম্পদ বাড়ানো ও এসডিজি-সম্মত বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান ডিএফএ’র ফলাফল উপস্থাপন করে জানান, প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত ৪২১ বিলিয়ন ডলারের অধিকাংশই সংগ্রহ করতে হবে দেশীয় সরকারি ও বেসরকারি অর্থায়ন, জলবায়ু তহবিল ও আন্তর্জাতিক অংশীদারের সহযোগিতার মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি, ব্যাংকার, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণে নানা দিক থেকে মতামত নেওয়া হয় এবং সেই প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে ডিএফএ ও এসডিজি অর্থায়ন কৌশলের চূড়ান্ত সংস্করণ প্রণয়ন করা হবে বলে organisers জানান।