কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার একটি খাল থেকে হাসনা খাতুন নামের সত্তর বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। গত কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর ধুবইল ইউনিয়নের গোবিন্দগুনিয়া এলাকায় জিকে খালের পানিতে মৃতদেহটি ভাসতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষে পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত হাসনা খাতুন পার্শ্ববর্তী বহলবাড়ী ইউনিয়নের খাড়ারা গ্রামের বাসিন্দা করিম আলীর স্ত্রী ছিলেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার মধ্যরাতে নিজ ঘরে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে হাসনা খাতুনের শেষ কথা হয়েছিল। কিন্তু গভীর রাতের কোনো এক সময়ে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন এবং পরদিন ভোরের দিকে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঘরে দেখতে পাননি। এরপর সম্ভাব্য সব জায়গায় আত্মীয়স্বজনদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করা হয়েছিল। ঘটনার চারদিন পর খালের পানিতে তার মরদেহ ভেসে ওঠার সংবাদ এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
উদ্ধার অভিযراতের সময় পুলিশের নজরে আসে যে নিহতের কোমরে গামছা দিয়ে শক্ত করে বালির বস্তা বেঁধে রাখা হয়েছিল। এই অমানবিক পরিস্থিতি ও মরদেহের অবস্থা দেখে নিহতের স্বজনেরা একে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে জোরালো দাবি করেছেন। তাদের ধারণা, অপরাধীরা বৃদ্ধাকে খুন করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ভারী বস্তা বেঁধে খালে ডুবিয়ে দিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হবে।
এই লোমহর্ষক ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদঘাটন করতে পুলিশ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।