August 17, 2026, 8:37 am
Title :
প্রতিশ্রুতির কতটা বাস্তবায়ন হলো, কী বলছেন বিরোধীদল ও বিশ্লেষকেরা তারেক রহমানের বিএনপি সরকারের প্রথম ছয়মাস কেমন কাটল? সরকারের ১৮০ দিন পূর্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা আজ জনসম্মুখে ডিএফওকে ফোন মন্ত্রীর, রেঞ্জ কর্মকর্তাকে বদলির অনুরোধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি ছাত্রকে অবরুদ্ধ করে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’, প্রভোস্ট বললেন ‘নাস্তা করিয়েছি’ তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না: হাইকোর্ট নরসিংদী জেল ভেঙে পালানো জঙ্গি জুয়েল বোমাসহ গ্রেফতার মুখে নয়, জনগণের সামনে দেয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ যে কারণে ফেলনা নয়

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 18, 2026
  • 34 Time View

ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল কিংবা ফ্রান্সের ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে; দুজনের কথার সারসংক্ষেপ একটাই—তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাদের আগ্রহ নেই। কোনাতে তো এর গুরুত্বহীনতা বোঝাতে মজা করে ‘চকোলেট মেডেল ম্যাচ’ও বলেছেন।

ফ্রান্স ও ইংল্যান্ড অনেক বড় স্বপ্ন নিয়েই এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছিল। কিন্তু সেমিফাইনালে এসে সেই স্বপ্ন ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল। স্পেনের কাছে ফ্রান্স হারল ২-০ গোলে। আর্জেন্টিনা লিখল ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি গল্প।

পিছিয়ে পড়েও ২-১ ব্যবধানে জিতে ইংল্যান্ডকে হতভম্ব করে দিল। ভাঙা মনের সেই ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডই মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে আজ রাতে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে নামছে।

তবে এই ম্যাচ খেলতে না চাওয়ার কারণ খুব সম্ভবত সবচেয়ে ভালোভাবে ব্যাখ্যা করেছিলেন নেদারল্যান্ডসের সাবেক কোচ লুই ফন গাল। ২০১৪ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ব্রাজিলকে হারিয়ে তৃতীয় হওয়া ফন গালের যুক্তি ছিল এমন—বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে সেমিফাইনালের লড়াইয়ে নামে চারটি দল।

সেমিফাইনালে হেরে স্বপ্ন ভেঙে চৌচির হয়ে যাওয়া দুটি দল মুখোমুখি হয় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে। ভাঙা হৃদয় নিয়ে কি নিজেদের সেরা ফুটবল কেউ উপহার দিতে পারে?

 

কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচকে অর্থহীন মনে করা হলেও এর পেছনে অর্থযোগ মোটেও কম নয়। মায়ামিতে আজকের জয়ী দল পাবে প্রায় ৩৫৫ কোটি টাকা; হারলে পাবে প্রায় ৩৩০ কোটি।

শুধু কি তাই? সেমিফাইনালে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দিতে হলেও এই ম্যাচ কি প্রিয় তারকাকে দেখার আরেকটি সুযোগ করে দেয় না? কখনো কখনো এটিই হয়ে যায় শেষ সুযোগ।

বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জার্মানির জার্সিতে অলিভার কানের শেষ ম্যাচ হয়ে আছে।

কিলিয়ান এমবাপ্পে ও হ্যারি কেইনের জায়গায় লিওনেল মেসিকে কল্পনা করুন। আর্জেন্টিনা যদি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যেত, তাহলে হয়তো তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটাই হয়ে থাকত দেশের জার্সিতে মেসির ‘লাস্ট ড্যান্স’! যেমনটা জার্মানির অলিভার কান, পতুর্গালের লুইস ফিগোর মতো কিংবদন্তিদের ক্ষেত্রে হয়েছে।

তা ছাড়া এটি যেহেতু একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ, তাই বিশ্বকাপের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা হওয়ার ক্ষেত্রে এই ম্যাচের পারফরম্যান্সও বিবেচনায় নেওয়া হয়।

এসব বাদ দিন। তৃতীয় হওয়ার লড়াইটা যদি না-ই থাকত, তাহলে বিশ্বকাপ ফুটবলের যে ইতিহাস আমাদের জানা, তা অনেকটাই বদলে যেত।

হয়তো জাস্ট ফন্টেইনের নাম জানাই হতো না! ১৯৫৮ বিশ্বকাপে ১৩ গোল করেছিলেন ফ্রান্সের প্রয়াত এই ফরোয়ার্ড। ৬৮ বছর পরও এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোলের রেকর্ড হিসেবে টিকে আছে তা। হয়তো টিকে থাকবে আরো কয়েক যুগ।

ধরুন, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ বলে বিশ্বকাপে কিছু নেই, কখনো ছিল না। কী হতো, বলুন তো? ফন্টেইনের বদলে এক বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডে থাকত সান্দোর ককসিসের নাম। হাঙ্গেরিয়ান কিংবদন্তি ১৯৫৪ বিশ্বকাপে করেছিলেন ১১ গোল। ১৯৫৮ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ৪ গোল করেই যে ককসিসকে পেছনে ফেলেন ফন্টেইন।

৯৬ বছরের ইতিহাসে মাত্র দুটি বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী নামে কোনো ম্যাচ ছিল না—১৯৩০ ও ১৯৫০ আসরে। ১৯৫০ সালে তো নকআউট পর্ব বলে কোনো শব্দই ছিল না।

বাকি বিশ্বকাপগুলোতে কম গল্প উপহার দেয়নি তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। ১৯৩৮ আসরে তৃতীয় হওয়ার লড়াইয়ে সুইডেনের বিপক্ষে জোড়া গোল করেই সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন ব্রাজিলের লিওনিদাস।

শুধুই কি ফন্টেইন আর লিওনিদাস? ইতালির সালভাতর শিলাচি (১৯৯০), ক্রোয়েশিয়ার ডেভর সুকার (১৯৯৮), জার্মানির টমাস মুলার (২০১০) তো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলেই। এবারো এমবাপ্পে-কেইনদের সামনে থাকছে সেই সুযোগ।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম গোলটিও কিন্তু তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেরই উপহার। ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শুরুর ১১ সেকেন্ডের মাথায় গোল করেছিলেন তুরস্কের হাকান সুকুর।

ব্যর্থতার ইতিহাসও আছে। ১৯৭০ বিশ্বকাপে ‘অর্থহীন’ এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেলেই ফন্টেইনের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতেন জার্মানির জার্ড মুলার। ১৯৯৪ সালে একটি গোল পেলেই এককভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়ে যেতেন রিস্টো স্টইচকভ। তা করতে না পেরে শুধু নিজের চুল ছিঁড়তেই বাকি রেখেছিলেন বুলগেরিয়ার এই স্ট্রাইকার।

অনেক দেশের তো বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য হয়ে আছে এই ম্যাচ জিতে তৃতীয় হওয়াটাই। তাই অনেকের চোখে অর্থহীন ম্যাচেও চোখ রাখতে হয়। আর যাই হোক, এই ম্যাচ ফেলনা নয়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com