August 17, 2026, 9:13 pm
Title :
খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি, কিন্তু হাসিনা পালিয়েছেন আরও এক বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকছেন নাসিমুল গনি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না পৃথিবীর কোন দেশে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ হয় না, প্রশ্ন রিজভীর শেখ হাসিনা আসুক, বিএনপি এটাই চায়: নিলোফার চৌধুরী মনি ডা. দীপু মনিকে পাঁচ মামলায় জামিন কেন নয়, জানতে চান হাইকোর্ট ১৮০ দিনের মূল্যায়নের মুখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা, রদবদল নিয়ে জল্পনা সরকারের দাবি শতভাগ সফলতা না এলেও আন্তরিকতা ছিল শতভাগ খালেদা জিয়ার আদর্শে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে: আবু সুফিয়ান হবিগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ আ’ ট’ ক ৩

পাঁচ মাসে ৬০৫ কোটি টাকা কৃষিঋণ মওকুফ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 22, 2026
  • 34 Time View

পাঁচ মাসে ৭ লাখের বেশি কৃষকের ৬০৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি)। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটি।

কৃষি ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে দেশের ৪৮টি জেলার মোট ৭ লাখ ৯ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক এই সুবিধার আওতায় এসেছেন। তথ্য যাচাই-বাছাই ও হিসাব সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর বিএনপি সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি জানিয়েছিলেন, শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতের কৃষকেরা এ সুবিধা পাবেন।

সরকারের এই উদ্যোগে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফের পরিকল্পনা রয়েছে, যার আওতায় প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হওয়ার কথা।

কৃষি ব্যাংক জানিয়েছে, সরকার ঘোষিত মোট ঋণ মওকুফ কর্মসূচির প্রায় ৩৯ শতাংশ এককভাবে বাস্তবায়ন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে দেশের মোট কৃষিঋণের প্রায় ৬৩ শতাংশই বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী থাকা ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ঋণ তাদের ওপর বড় ধরনের আর্থিক ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করেছিল।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, বাজারের মন্দা এবং নানা অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক কৃষক সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। ফলে নতুন করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছিলেন। ঋণ মওকুফের ফলে এসব কৃষক আবারও নিয়মিত ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসে নতুন করে কৃষিঋণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি। 

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সঞ্চিয়া বিনতে আলী বলেন, সরকারের নির্দেশনার আলোকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কৃষকদের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করে ঋণ মওকুফ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে বিপুলসংখ্যক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক ঋণের দায় থেকে মুক্ত হয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নতুন ঋণ নিয়ে কৃষি উৎপাদনে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ছিল। পাশাপাশি ‘কৃষক কার্ড’ চালু, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রবর্তন, ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন, পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার এবং প্রতিবছর ৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মতো কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ১৯৯১-১৯৯৬ মেয়াদে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের আসল ও সুদ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আবারও কৃষিঋণ মওকুফের এমন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলো।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ কৃষিঋণ-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) কৃষি ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে ব্যাংকটি বিতরণ করেছে ৯ হাজার ৮১ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১ হাজার ২৮১ কোটি টাকা বেশি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com