গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন ও সরকার ঘোষিত বিভিন্ন ভাতা সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি কে এম শহীদুল হক। তিনি জানান, গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় সরকার ঘোষিত সব সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ ব্যাংকে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাপ্য। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে তাদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতাদি থেকে বঞ্চিত করে আসছে।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ১৫ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর পুনঃপেনশন এবং বাংলা নববর্ষ, উৎসব ও চিকিৎসা ভাতা পাওয়ার বিধান রয়েছে। দেশের অন্যান্য সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে এই সুবিধা চালু থাকলেও গ্রামীণ ব্যাংক তা প্রদানে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে সংক্ষুব্ধ অবসরপ্রাপ্তদের পক্ষে ২০২১ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং ৯৫২৬/২০২১ ও ৬৭৬৫/২০২১) করা হয়। এর শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্তদের অনুকূলে রায় প্রদান করেন এবং চলতি বছরের ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে গ্রামীণ ব্যাংককে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে সরকার ঘোষিত পুনঃপেনশন ও অন্যান্য সব সুবিধা চালুর স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করে বলেন, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং নানা অযুহাতে গড়িমসি করছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ১৯৯৪ সালের তথাকথিত ‘স্বেচ্ছা অবসর’ সার্কুলারসহ বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নির্ধারিত বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ার আগেই অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। এই বিপুল সংখ্যক কর্মী ও তাদের পরিবার আজ চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে জীবনযাপন করছেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আদালতের রায় মেনে নিয়ে অবিলম্বে প্রায় ১৪ হাজার অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বকেয়া পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতাদি পরিশোধের আহ্বান জানান তারা। সংবাদ সম্মেলনে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত শতাধিক কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।