সোমবারের বিশ্বকাপ ফাইনালে লিওনেল মেসিকে ধরার জন্য আলাদা কোনো খেলোয়াড় রাখছে না স্পেন। এমনটাই জানিয়েছেন স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার বদলে আর্জেন্টিনার অধিনায়কের ওপর ‘খুব কাছ থেকে নজর’ রাখবে তার দল। কারণ মেসিকে ম্যান-মার্ক করলে যে উল্টো বিপদ হতে পারে, তা বহু আগেই টের পেয়েছেন তিনি।
৩৯ বছর বয়সী মেসিকে ঠেকাতে কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় ব্যবহার করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে দে লা ফুয়েন্তে ফিরে যান পুরোনো এক স্মৃতিতে। তার সেভিয়া দল তখন বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলছিল এক যুব ম্যাচে। কিশোর মেসিকে আটকাতে গিয়ে সেদিন কী নাটকীয়ভাবে সব ভেস্তে গিয়েছিল, সেই গল্পই বলেন তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘আমরা স্প্যানিশ কাপে বার্সেলোনার বিপক্ষে খেলতে গিয়েছিলাম। মেসি নামের একটা ছেলের সম্পর্কে অনেক ভালো কথা শুনেছিলাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই আমরা শুরু থেকে তাকে ম্যান-টু-ম্যান মার্কিংয়ে রেখেছিলাম। আর ৭০ মিনিট পর্যন্ত স্কোর ছিল ০-০। যে খেলোয়াড় তাকে মার্ক করছিল, তাকে যখন কার্ড দেখানো হলো, আমি তাকে তুলে নিলাম। এর ১৫ মিনিটের মধ্যেই মেসি চারটা গোল করে ফেলল।’
এই অভিজ্ঞতা স্পেন কোচের মনে গভীর দাগ কেটেছে।
তিনি বলেন, ‘এর মানে কী? আমরা কি তাকে ম্যান-টু-ম্যান মার্ক করব? না। কিন্তু আমরা কি তার ওপর খুব কাছ থেকে নজর রাখব? হ্যাঁ।’
নিজের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ খেলছেন মেসি। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা এখনো তিনিই। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর প্রথম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন।
মেসির উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই তুলনা টেনে আনে স্পেনের তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের সঙ্গে। তবে ১৮ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়ের ওপর সেই তুলনার চাপ চাপাতে রাজি নন দে লা ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, ‘মেসি একজনই। সে অসাধারণ প্রতিভাবান এবং তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য একটা উদাহরণ। কিন্তু লামিনকে লামিনই থাকতে হবে। আমার মনে হয়, তাকে সাহায্য করার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো তার পাশে থাকা, তাকে যেমন চিনি সেভাবেই থাকতে সহায়তা করা।’
ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে জোরালো ট্যাকলের শিকার হয়ে বুধবার অনুশীলনে অনুপস্থিত ছিলেন ইয়ামাল। তার ফিটনেস নিয়ে উদ্বেগও দূর করেছেন দে লা ফুয়েন্তে।
তিনি বলেন, ‘তার উরুতে জোরালো আঘাত লেগেছিল। বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হয়েছিল সে, বেশ ব্যথাপ্রবণ জায়গায়। আজ সে বাকি সবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই অনুশীলন করেছে।’
টুর্নামেন্টের অস্বাভাবিক পরিবেশের জন্যও প্রস্তুতি নিয়েছে স্পেন। এর মধ্যে আছে পানি পানের বিরতি ও দীর্ঘ বিরতির আয়োজন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে খেলোয়াড়দের দে লা ফুয়েন্তে বলেছিলেন, মানিয়ে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
তিনি বলেন, ‘কেউ একটা অভিযোগও করেনি, একটুও গজগজ করেনি। মানিয়ে নেওয়া মানে যা বদলাতে পারবে না, তা মেনে নেওয়া। আর যেহেতু বদলাতে পারবে না, তাই এটা উপভোগ করাই ভালো।’