বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মূল্যায়ন করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। তিনি জানান, সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য নানামুখী ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার সুফল পেতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। বিশেষ করে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পিছিয়ে দেওয়া এবং জ্বালানি খাতের সংস্কারের জন্য নেওয়া উদ্যোগগুলোকে তিনি সরকারের বড় সফলতা হিসেবে দেখছেন। তবে গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি সংকটগুলোর দ্রুত সমাধানে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।
ব্যবসায়িক আস্থার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও নতুন আঙ্গিকে চাঁদাবাজির প্রকোপ এখনো ব্যবসায়ীদের ভাবিয়ে তুলছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী নেতা। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে নতুন বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি হয়নি, বরং বিদ্যমান ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, ব্যাংক খাত থেকে ঋণের প্রবাহ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। ব্যাংকগুলো বড় ব্যবসায়ীদের ঋণখেলাপি হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকছে, যা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাসকীন আহমেদ আরও বলেন, সরকার বেসরকারি খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করলেও, ঘোষিত প্রণোদনার অর্থ এখনো ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছায়নি। সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আর্থিক তারল্য সংকট কাটানোর ওপর তিনি জোর দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকারের ওপর রাখা ব্যবসায়ীদের আস্থা দীর্ঘমেয়াদে সুফল বয়ে আনবে, তবে সেজন্য অন্তর্বর্তীকালীন চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে আরও অন্তত দেড় থেকে দুই বছর ধৈর্যের প্রয়োজন।