August 17, 2026, 9:12 pm
Title :
খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করলেও পরাজিত হননি, কিন্তু হাসিনা পালিয়েছেন আরও এক বছর মন্ত্রিপরিষদ সচিব থাকছেন নাসিমুল গনি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছি না পৃথিবীর কোন দেশে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ হয় না, প্রশ্ন রিজভীর শেখ হাসিনা আসুক, বিএনপি এটাই চায়: নিলোফার চৌধুরী মনি ডা. দীপু মনিকে পাঁচ মামলায় জামিন কেন নয়, জানতে চান হাইকোর্ট ১৮০ দিনের মূল্যায়নের মুখে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা, রদবদল নিয়ে জল্পনা সরকারের দাবি শতভাগ সফলতা না এলেও আন্তরিকতা ছিল শতভাগ খালেদা জিয়ার আদর্শে জনকল্যাণে কাজ করতে হবে: আবু সুফিয়ান হবিগঞ্জে মিছিলের প্রস্তুতিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাহদীসহ আ’ ট’ ক ৩

রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আসছে

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 23, 2026
  • 24 Time View

ক্ষমতা গ্রহণের পাঁচ মাসের মাথায় রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। আগামী সপ্তাহে পদত্যাগ করতে পারেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। কিন্তু ইতোমধ্য সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বার্তা পাঠানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির দপ্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে বঙ্গভবন সূত্র জানিয়েছে।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ক্ষেত্রে তাঁকে স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফর থেকে ফেরার পর রাষ্ট্রপতিকে তাঁর সফর বিষয়ে অবহিত করার রেওয়াজ রয়েছে। তবে তারেক রহমান গতকাল পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন– এমন কোনো তথ্য বঙ্গভবন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশ করেনি।

যদিও বুধবার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপি সরকারের একাধিক মন্ত্রী এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা তাদের জানা নেই বলে এড়িয়ে গেছেন। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হতে পারেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নানা পর্যায়ে জ্যেষ্ঠ দুই থেকে তিন নেতার নাম নিয়ে আলোচনা আছে।

বঙ্গভবন সূত্রের দাবি, স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন। এ কারণ দেখিয়ে মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে পারেন। বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তিনি দুই দফায় সিএমএইচে (সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল) গেছেন। সেখান থেকে তাঁকে পূর্ণ বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য গত মে মাসে লন্ডনে গিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি। পরিবারের সদস্য, চিকিৎসক, স্টাফ নার্স ও বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত দল আওয়ামী লীগের নির্বাচিত এই রাষ্ট্রপতি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত সাহাবুদ্দিনের এই মেয়াদ ২০২৮ সালের ২৪ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।

আইন অনুযায়ী, সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্যরাই গোপন ভোটের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধান বিচারপতির কাছে শপথবাক্য পাঠ করেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সংঘটিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি ওঠে ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে। তবে এ নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছিল বিএনপি। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন নির্বাচিত সরকার শপথ গ্রহণ করেছে।

তবে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি ‘অপমানিত বোধ করছেন’। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি সরে যেতে চাই; আমি সরে যেতে আগ্রহী। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে বঙ্গভবনে নৌবাহিনীর বিদায়ী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানকে সাক্ষাৎ দেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। গত ১৫ জুলাই ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে বাণী দেন তিনি।
এর আগে ২৫ জুন ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এবং ৯ জুন মরক্কোর নতুন রাষ্ট্রদূত লালা বুতাইনা এল কেরদুদি এল কুলালির পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন রাষ্ট্রপতি। রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ৩৫ বছর। তাঁকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনী কর্তা হিসেবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করেন। তিনি স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন।

সংবিধানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ অবসানের কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষের আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। আর পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি পদে একক প্রার্থী হলে বিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণের প্রয়োজন পড়ে না।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর সংসদ অধিবেশন চলাকালে এই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এ সময় অধিবেশন না থাকলে নির্বাচন কমিশন স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভোট গ্রহণের কমপক্ষে সাত দিন আগে অধিবেশন আহ্বান করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com