ভোজ্যতেলের খুচরা দাম লিটারে ১০ টাকা বাড়ানোর দাবি তুলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। তারা বিশ্ববাজারের সঙ্গে ভগ্নিসঙ্গতি দূর করতে এমন প্রস্তাব জানায় এবং বলে চলতি দামে আমদানি করলে ধারাবাহিক ক্ষতিের ফলে ব্যবসা চালানো সম্ভব হবে না। এই প্রস্তাব প্রথম আসে ১১ জুলাই বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে; গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকও হয়েছে, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং একই বিষয়ে এ সপ্তাহে আবারও বৈঠকের কথা রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য লিটারে ১০ টাকা বেড়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাদের মতে লিটারে ১০ টাকা বাড়ালে পাঁচ লিটার বোতলের দাম হবে এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৮৮ টাকা ধরা যেতে পারে; খোলা পাম তেলের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে লিটারে ১৮৩ টাকা। মন্ত্রণালয় বলেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিত্যপণ্যে কিছু করছাড় চিহ্নিত থাকায় সে অনুযায়ী সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, আর প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)কে কাজে লাগানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত ২৯ এপ্রিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারে ৪ টাকা বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছিল।
আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য অনুযায়ী অপরিশোধিত সয়াবিন তেলের দাম এখন টনপ্রতি প্রায় ১,১৯১ মার্কিন ডলার, যা এক মাস আগে ছিল ১,১৬৯ ডলার এবং এক বছর আগে ছিল ১,০৭৮ ডলার। অপরিশোধিত পাম তেলের দাম বর্তমানে টনপ্রতি প্রায় ১,১৬২ ডলার, মাসখানেক আগে ছিল ১,১৪৫ এবং এক বছর আগে ছিল ১,০২৫ ডলার। আমদানিকারকরা বলছেন জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয়ে তীব্র বৃদ্ধি হলে প্রকৃতভাবে লিটারে ১৮–২০ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, এবং দীর্ঘস্থায়ী লোকসান সহ্য করা সম্ভব হবে না—টি কে গ্রুপের পরিচালক মো. শফিউল আতহার তসলিমের বক্তব্যের সারমর্ম এটাই। তবে মন্ত্রণালয় জানায়, বিশ্ববাজারের ওঠাপড়ার সঙ্গে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাবিত দামের ব্যবধান আছে এবং সেই বিশ্লেষণ মাথায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।