August 17, 2026, 12:57 pm
Title :

সেমিফাইনালেও বড় ধরনের রেফারিং বিতর্কে আর্জেন্টিনা

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 16, 2026
  • 31 Time View

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেমিফাইনাল মানেই বাড়তি উত্তেজনা, স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালটি রূপ নিয়েছিল রীতিমতো এক রণক্ষেত্রে।

বিশেষ করে প্রথমার্ধে মাঠের ফুটবল ছাপিয়ে আলোচনায় ছিল দুই দলের খেলোয়াড়দের দফায় দফায় সংঘর্ষ। আর এই পুরোটা সময় মাঠের রেফারি ইসমাইল আলফাতের একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত যেন জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢেলেছে, যার কারণে বারবার ক্ষোভে ফেটে পড়তে দেখা গেছে ইংলিশ শিবিরকে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলতে থাকে আলবিসেলেস্তেরা। এতটাই যে, চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ১০ মিনিটে সবচেয়ে বেশি ফাউল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি নিজেদের করে নেয় তারা।

প্রথমার্ধ জুড়েই ইংলিশ ফুটবলারদের ওপর একের পর এক কড়া ট্যাকল চালাতে থাকেন লিসান্দ্রো-এনজোরা। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা মোট ১২টি ফাউল করলেও রেফারির পকেট থেকে কার্ড বের হয়েছে মাত্র একবার! আর্জেন্টিনার এমন পার পেয়ে যাওয়াটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছিল না থ্রি লায়নসরা।
ম্যাচের বয়স তখন মাত্র তিন মিনিট। ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার এলিয়ট অ্যান্ডারসন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে চ্যালেঞ্জ জানালে তেড়ে আসেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ।

অ্যান্ডারসনকে কড়া ট্যাকল করার পর এনজোকে দেখা যায় অ্যান্ডারসনের মাথার পেছনে ধাক্কা দিতে। পরিষ্কার কার্ড দেখার মতো অপরাধ হলেও রেফারি ইসমাইল আলফাত সেখানে কার্ড দেখানোর কোনো প্রয়োজনই বোধ করেননি। রেফারির এমন নির্লিপ্ততায় তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন হ্যারি কেইনরা।
উত্তেজনার এখানেই শেষ নয়। প্রথমার্ধে বল দখলের লড়াইয়ে ইংলিশ লেফট-ব্যাক জেদ স্পেন্সকে ফাউল করেন জিউলিয়ানো সিমিওনে।

শুধু তাই নয়, অন্য একটি ঘটনায় সিমিওনের কনুই স্পেন্সের মুখে আঘাত করলেও রেফারির চোখ তা এড়িয়ে যায়। রেফারি যেন চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন ইংলিশদের সেরা তারকা জুড বেলিংহামের ওপর ফাউলগুলোর ক্ষেত্রেও। ডি-বক্সের ঠিক বাইরে বেলিংহামকে বিপজ্জনকভাবে ফাউল করে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার নাহুয়েল মোলিনা। ইংল্যান্ড ফ্রি-কিক পেলেও মোলিনাকে কোনো শাস্তি দেননি রেফারি। এমনকি বল পজিশনে না থাকা অবস্থায় লিয়ান্দ্রো পারেদেস যখন বেলিংহামকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন, সেটিও রেফারির নজর এড়িয়ে যায় অলক্ষ্যেই।
পুরো প্রথমার্ধে ১২টি ফাউল করার পর অবশেষে প্রথমার্ধের শেষের দিকে কার্ডের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের একটি কাউন্টার অ্যাটাক শার্ট টেনে ধরে রুখে দেওয়ায় হলুদ কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস। অথচ ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এনজো ফার্নান্দেজ নিজে তিনটি ফাউল এবং হাতাহাতিতে জড়িয়েও কোনো কার্ড ছাড়াই পার পেয়ে যান।

তবে মাঠের সব বিতর্ক আর নাটকীয়তাকে এক পাশে ঠেলে দিয়ে দিনশেষে নায়ক সেই এনজো ফার্নান্দেজই। ম্যাচ শেষের মাত্র ৪ মিনিট আগে, অর্থাৎ ৮৬ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে চোখ ধাঁধানো এক দূরপাল্লার শটে গোল করে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য কামব্যাকের রূপকার বনে যান এই মিডফিল্ডার।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com