August 17, 2026, 12:55 pm
Title :

নোবিপ্রবিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের ডকুমেন্টারি নিয়ে বিতর্ক

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, August 6, 2026
  • 31 Time View

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আয়োজিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এই অনুষ্ঠানের ভিডিও প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক আয়োজক উপকমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের সাবেক সভাপতি ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এমডি মাসুদ রহমানকে।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটরিয়ামে আয়োজিত আলোচনা সভা শুরুর আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নোবিপ্রবির শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবদান তুলে ধরে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, ডকুমেন্টারিটিতে একপেশেভাবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের ভূমিকা তুলে ধরা হলেও মূলসারির কোনো ছাত্রনেতার অবদান ফুটিয়ে তোলা হয়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক উপকমিটির আহ্বায়ক ছিলেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক (বর্তমানে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য) এবং নোবিপ্রবি সাদা দলের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার। তবে তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পর নবনিযুক্ত কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

উপকমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন অ্যাগ্রিকালচার বিভাগের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান, সাধারণ সম্পাদক ও ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুল হোসেন, আইসিটি সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট ফয়েজ আহমেদ, ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন আল ফয়সল এবং কম্পিউটার অপারেটর আব্দুর রহিম। আর কমিটিতে সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের ২০২৩-২৪ কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এমডি মাসুদ রহমান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় নির্মিত ডকুমেন্টারি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ফলিত গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল করিম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নোয়াখালীতে যেসব শিক্ষক সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে আমি একজন। কিন্তু যে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়েছে, সেখানে অন্যান্য শিক্ষকদের অবদান তুলে ধরা হলেও আমার একটি ছবি পর্যন্ত দেখানো হয়নি। সব মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করতে না পারা আমাদের জন্য লজ্জার।

অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, যে ডকুমেন্টারি বানানো হয়েছে, তাতে আয়োজকদের নিজেদের এবং একটি দলের ছাত্রনেতাদের বক্তব্য ও আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনকেও মুক্তিযুদ্ধের মতো শুধু একটি রাজনৈতিক দলের অবদান হিসেবে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

নীল দলের সাবেক সভাপতিকে উপকমিটিতে রাখার বিষয়ে মূল কমিটির আহ্বায়ক ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, তার নাম যখন প্রস্তাব করা হয়, তখন কেউ আপত্তি জানায়নি। কাজের অভিজ্ঞতা বিবেচনা করেই তাকে কমিটিতে রাখা হয়েছিল।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com