রাজধানীর জনবহুল পল্লবী এলাকায় প্রায় ৯ লাখ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র ১৫০ জন পুলিশ সদস্য। এলাকাটিতে অসংখ্য বস্তি ও বিহারি ক্যাম্প থাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশের জন্য নিয়মিত এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সীমিত জনবল নিয়ে দিনরাত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এর ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে যোগ হয়েছে থাকার জায়গার তীব্র সংকট। থানার ব্যারাকে গাদাগাদি করে থাকার ফলে পুলিশ সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়ছে, যা তাদের কর্মদক্ষতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানিয়েছেন, এই এলাকায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে হয়, যাদের বড় একটি অংশ মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত। তবে অপরাধীদের দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আসার প্রবণতাকে তারা অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। পুলিশ সদস্যদের আবাসন সমস্যার বিষয়ে ওসি জানান, ভবন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে পুলিশের থাকার পরিবেশ উন্নত হবে।
কঠিন প্রতিকূলতার মধ্যেও থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ পুলিশের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জিডি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স কিংবা সাধারণ আইনি সহায়তার জন্য আসা ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নিয়মিত সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তবে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ এবং এলাকার সামাজিক বাস্তবতায় শুধুমাত্র গ্রেপ্তার অভিযানের মাধ্যমে অপরাধ নির্মূল সম্ভব কি না, তা নিয়ে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেই সংশয় কাজ করছে।