পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শী বিডিআর সদস্য নজরুল ইসলামের নির্মম হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে চলমান মামলায় সাক্ষ্য দিতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নিজাম উদ্দিন হাওলাদার জানান, ২০১০ সালে বাগেরহাটের শরণখোলায় বলেশ্বর নদীর তীর থেকে নজরুলের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। মরদেহটির হাত-পা বাঁধা ছিল এবং শরীরের সঙ্গে সিমেন্টের বস্তা যুক্ত ছিল, যা তৎকালীন সময়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছিল।
সাক্ষ্য অনুযায়ী, নজরুল ইসলাম পিলখানা ট্র্যাজেডির পর আত্মগোপনে গিয়ে গোপালগঞ্জের একটি ক্লিনিকে কর্মরত ছিলেন। কোটালীপাড়া থেকে অপহৃত হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তৎকালীন শরণখোলা থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. নিজাম উদ্দিন জানান, উদ্ধারের কয়েক দিন পর নিহতের ভাই, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা থানায় সংরক্ষিত পোশাক দেখে নজরুলকে শনাক্ত করেন। এরপর খুলনা বিডিআর সেক্টর থেকেও এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হয় এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
জেরার মুখে সাক্ষী জানান, মরদেহটি প্রচণ্ড পচন ধরা অবস্থায় থাকায় সুরতহাল প্রতিবেদনে তিনি গুলির চিহ্ন দেখেননি, তবে কানের কাছে রক্তের দাগ ছিল। আসামিপক্ষের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী স্বীকার করেন যে, সিমেন্টের বস্তাটি জব্দ করা হয়েছিল কি না তা তার মনে নেই। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষ্য হিসেবে নজরুল ইসলামের এই নৃশংস পরিণতি তৎকালীন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।