বগুড়ার শেরপুর পৌর এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও বড় অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগে থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে। পৌর শহরের সান্যালপাড়া হাটখোলা সড়ক এলাকায় অবস্থিত সায়েম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এবং সায়েম ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানে সম্প্রতি এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় ছাত্রদলের এক নেতার পক্ষ থেকে থানায় এজাহার দায়ের করা হলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রবাসী আবদুল মান্নানের ছেলে মো. আবদুল্লাহ আল রাফাত নিজে শেরপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে অতর্কিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল ব্যক্তি ওই প্রতিষ্ঠানে চড়াও হয় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শেরপুর পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম সম্রাট এই পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতা। এজাহারে তাকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি আরও ১২ জনের নাম এবং অজ্ঞাতপরিচয় অর্ধশত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার কয়েকদিন আগে প্রধান আসামি তরিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানে এসে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং এই টাকা না দিলে ব্যবসা করতে দেবেন না বলে হুমকি দেন। এছাড়া তাদের মালিকানাধীন জায়গা জোরপূর্বক দখল করারও পাঁয়তারা চলছে বলে অভিযোগে জানানো হয়। নির্ধারিত দিনে ওই ব্যক্তিরা দলবদ্ধ হয়ে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে কর্মচারীদের মারধর করে এবং নগদ অর্থ লুটপাট করে নিয়ে যায় বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবদল নেতা ও পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম। তার দাবি, ওই ঘটনার সময় তিনি শেরপুরেই উপস্থিত ছিলেন না এবং বগুড়া শহরে অবস্থান করছিলেন। তার মতে, চাঁদা দাবি বা হামলার মতো কোনো ঘটনা সেদিন ঘটেনি বরং জমিজমাসংক্রান্ত একটি দীর্ঘমেয়াদী বিরোধকে কেন্দ্র করে তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা একটি পৈতৃক ও সরকারি জমি অবৈধ দখলের চেষ্টার প্রতিবাদ করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য জানতে সিসিটিভি ফুটেজ নিরপেক্ষভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত।
এদিকে ঘটনার পর উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নড়েচড়ে বসেছে। শেরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দিন জানিয়েছেন যে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে ঘটনার মূল শেকড় রয়েছে জায়গা-জমিসংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধে। সেখানে সরাসরি চাঁদাবাজির কোনো সুনির্দিষ্ট বা শক্তিশালী প্রমাণ এই মুহূর্তে পাওয়া যায়নি। তবে এসংক্রান্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি জানিয়েছেন পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই দলীয় পরিচয়ের দুই নেতার মধ্যকার এই বিরোধ ও সংঘাতের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।