August 17, 2026, 5:22 am
Title :
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কার্যকর তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর শিক্ষার্থী হেনস্থায় প্রভোস্টের পদত্যাগ ও সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের দাবি ছাত্রকে অবরুদ্ধ করে ‘ভয়ভীতি প্রদর্শন’, প্রভোস্ট বললেন ‘নাস্তা করিয়েছি’ তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা যাবে না: হাইকোর্ট নরসিংদী জেল ভেঙে পালানো জঙ্গি জুয়েল বোমাসহ গ্রেফতার মুখে নয়, জনগণের সামনে দেয়া ওয়াদা পালন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছায়ানটের সংগীত শিক্ষা এক সপ্তাহে ডলারের দাম কমেছে ১ টাকার বেশি প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যে বাংলাদেশ অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেশ: সংস্কৃতিমন্ত্রী অফিসে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শন

পুরোদমে চলছে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক প্রশস্তের কাজ

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, August 13, 2026
  • 20 Time View
দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দ্বার খুলছে। দীর্ঘদিনের যানজট, সরু সড়ক, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ ও ধীরগতির কারণে দুর্ভোগে থাকা চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবার নতুন অবয়ব পাচ্ছে।
মহাসড়ক প্রশস্তকরণ, মাটি ভরাট, ড্রেনেজ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ নানা কর্মযজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের আওতাধীন সাতকানিয়ার রাস্তার মাথা থেকে জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত ২১ দশমিক ৭ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। তিনটি প্যাকেজে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কের উভয় পাশে ৬ ফুট করে সড়ক প্রশস্ত করা হচ্ছে। পুরোনো সড়কের অংশের সঙ্গে নতুন সম্প্রসারিত অংশ যুক্ত হয়ে সড়কের প্রস্থ দাঁড়াবে ৩৩ দশমিক ৭৮ ফুটে।
এর মধ্যে জাঙ্গালিয়া অংশে প্রায় ৯০০ মিটার চার লেন সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী এপ্রিল ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এরই মধ্যে একটি প্যাকেজের প্রশস্তকরণ কাজ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বর্তমানে ওভারঅল প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। একটি প্যাকেজের প্রশস্তকরণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং বাকি দুটি প্যাকেজের কাজও চলমান। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।সওজের এ কর্মকর্তা আরো বলেন, নির্মাণকাজ চলাকালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের ভোগান্তি কমানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।এদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগপথ। চট্টগ্রাম নগরীর সঙ্গে পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া হয়ে কক্সবাজারের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম এই মহাসড়ক। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশাসহ বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। একই সঙ্গে কক্সবাজারের পর্যটনকেন্দ্রিক যানবাহনের চাপও দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে পটিয়া, চন্দনাইশ, দোহাজারী ও সাতকানিয়ার বিভিন্ন ব্যস্ত অংশে দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে যানবাহনের চাপ বেড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সরু সড়ক, ধীরগতির যানবাহন, অপরিকল্পিত পার্কিং এবং সড়কের পাশে বিভিন্ন স্থাপনার কারণে অনেক সময় স্বাভাবিক গতিতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। মহাসড়ক প্রশস্ত হলে শুধু যানজট কমবে না, পণ্য পরিবহনেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।

পরিবহন মালিক জয়নাল আবেদীন বলেন, বর্তমানে যানজটের কারণে একটি গাড়িকে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেক বেশি সময় লাগে। এতে জ্বালানি খরচ বাড়ে, চালকের সময় নষ্ট হয় এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়ে যায়। মহাসড়ক প্রশস্ত হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। এতে সময় ও খরচ দুটিই কমবে। মহাসড়কের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও মোড়গুলোতে সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে মহাসড়কের সুফল আরো বেশি পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান লাইফলাইন। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কৃষিপণ্য, মাছ, লবণ, শিল্পপণ্যসহ নানা ধরনের পণ্য চট্টগ্রাম নগরী ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহন করা হয়। কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র হওয়ায় সড়কটির ওপর পর্যটন যাত্রীদের চাপও ব্যাপক। মহাসড়ক প্রশস্ত ও নিরাপদ হলে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যাতায়াতের সময় কমার পাশাপাশি পর্যটকদের ভোগান্তিও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে মানুষের চলাচল বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে হোটেল মোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং পর্যটননির্ভর বিভিন্ন খাতে। একই সঙ্গে কৃষক ও উৎপাদকরা দ্রুত তাদের পণ্য বাজারজাত করার সুযোগ পাবেন।

মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও চলছে মাটি কাটা ও ভরাটের কাজ, কোথাও পুরোনো সড়কের পাশে নতুন অংশ তৈরির প্রস্তুতি। ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে মাটি সরানো, সমতল করা ও সড়কের ভিত্তি প্রস্তুতের কাজ। একই সঙ্গে শ্রমিকরা বিভিন্ন অংশে অবকাঠামোগত কাজ করছেন। নির্মাণকাজ এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশে দৃশ্যমান হচ্ছে নতুন প্রশস্ত সড়কের অবয়ব। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসানের আশায় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়ক প্রশস্ত করলেই কাজ শেষ হবে না। প্রশস্ত সড়কের সুফল পেতে হলে এর সঙ্গে সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দাবি, সড়কের পাশে অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত বাসস্টপ, নিরাপদ পথচারী পারাপার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সাইন-সিগন্যাল, সড়কবাতি এবং বাজারকেন্দ্রিক যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

পটিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা গাজী আমির হোসেন বলেন, রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে এটা নিঃসন্দেহে ভালো খবর। কিন্তু রাস্তার দুই পাশে আবার যদি অবৈধ দখল ও অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠে, তাহলে কয়েক বছর পর একই সমস্যা তৈরি হবে। তাই এখন থেকেই এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। বিশেষ করে রাতের বেলায় চুরি ছিনতাই প্রতিরোধে মহাসড়কে লাইটিং ব্যবস্থার জোর দাবি জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বর্তমানে বর্ষা মৌসুম হওয়ায় নির্মাণাধীন অংশে পানি জমে যান চলাচলে যাতে বড় ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার দাবি জানিয়েছেন। নির্মাণকাজ চলাকালে বিকল্প ও নিরাপদ যান চলাচলের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সাইনবোর্ড এবং রাতে দৃশ্যমানতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী যান চলাচলে সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে যানজট নিরসন, যাতায়াতের সময় কমানো এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থায় গতি আনার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সড়ক মহাসড়ক সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু সড়কের প্রস্থ বাড়ানো নয়, মহাসড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও জরুরি। সড়কের পাশে অবৈধ দখল রোধ, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রকল্পটির সুফল বহুগুণ বাড়বে।

২১ দশমিক ৭ কিলোমিটার মহাসড়ক প্রশস্তকরণের এ কর্মযজ্ঞ দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করছে। এপ্রিল ২০২৭ সালের মধ্যে কাজ শেষ হলে সড়কটির ধারণক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি যানজট ও যাতায়াতের সময় কমবে এমন প্রত্যাশা এখন পটিয়া থেকে কক্সবাজারমুখী লাখো মানুষের। তবে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা, নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নির্মাণকালীন জনভোগান্তি যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা। এসব নিশ্চিত করা গেলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক শুধু একটি প্রশস্ত সড়ক নয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের অর্থনীতি, পর্যটন ও যোগাযোগের নতুন গতির প্রধান করিডোর হয়ে উঠতে পারে। অর্থাৎ পুরোনো সংকীর্ণ মহাসড়কের জায়গায় ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের নতুন ‘ইকোনমিক ও ট্রান্সপোর্ট করিডর যার সুফল পেতে অপেক্ষায় লাখো মানুষ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com