July 1, 2026, 4:20 am
Title :
ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষের ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের সর্বোচ্চ বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই অভ্যুত্থানে: রিজভী বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল করলেন প্রধানমন্ত্রী, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা স্বাধীনতার বিরোধিতার দায়ে বিএনপির ক্ষমা চাওয়া উচিত: গোলাম পরওয়ার বিসিবির বর্তমান কমিটিতে ক্রিকেট গতিশীল হবে: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রশিক্ষণার্থীদের সনদপত্র বিতরণ ও বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত আগামী ৫ দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে, জানাল অধিদপ্তর বাজেট বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় বাধা হবে ব্যাংকিং খাত: জামায়াত এমপি জাতীয় সংসদে আইনজীবীর পোশাকে রুমিন ফারহানা, সংসদে আলোচনা মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানকে আলাদা করার সুযোগ নেই: আখতার হোসেন

সম্ভাবনা সত্ত্বেও চট্টগ্রামে চামড়া সংগ্রহে ধস; জাতীয় সম্পদ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের দাবি

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, May 31, 2026
  • 14 Time View

ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত কারণেই চট্টগ্রামে সারা বছর তুলনামূলক বেশি চামড়া সংগ্রহ হয়। এ সম্ভাবনাকে ঘিরে একসময় নগরীতে গড়ে উঠেছিল ২২টি ট্যানারি। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে প্রায় সবকটিই বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রতি বছর কোরবানির মৌসুমে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সড়কে পড়ে থাকতে দেখা যায় অবিক্রীত ও নষ্ট হওয়া পশুর চামড়া। জাতীয় সম্পদের এমন অপচয় রোধে কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গেলো অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ১১৫ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯৯ কোটি ডলারের পণ্য। সরকারের আশা, সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় এ খাতকে ১০ থেকে ১২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত করা সম্ভব। কিন্তু সম্ভাবনার এ খাতের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ভিন্ন গল্প।

প্রতি বছরের মতো এবারও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ পশুর চামড়া নষ্ট হয়ে সড়কে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে এসব চামড়া অপসারণ করতে হয়েছে সিটি করপোরেশনকে। বিনামূল্যে লবণ বিতরণসহ সরকারের নানা উদ্যোগ থাকলেও জাতীয় এ সম্পদ সংরক্ষণে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

একসময় চট্টগ্রামে ২২টি ট্যানারি থাকলেও বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র একটি। একইভাবে প্রায় ১৩০ জন আড়তদারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জনে। আড়তদারদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনে নিয়ে বছরের পর বছর বকেয়া অর্থ পরিশোধ না করায় মূলধন সংকটে পড়েছেন তারা। ফলে কোরবানির মৌসুমে পর্যাপ্ত চামড়া কেনার সামর্থ্যও হারাচ্ছেন অনেক ব্যবসায়ী।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মোসলেম উদ্দীন বলেন, ‘ট্যানারি মালিকেরা আমাদের কাছ থেকেও দামে নেয় না। ওরা নেয় মনে করেন ৩০ টাকা, ৩৫ টাকা, ৪০ টাকা ফুটের মধ্যে নেয়। তো ফটের মধ্য থেকে নেয়ার কারণে আমরা লোকসানে পড়ে যাই।

চামড়া নষ্ট হওয়ার আরেকটি বড় কারণ পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাব। সরকারি উদ্যোগে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে জাতীয় এ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করছেন আড়তদাররা।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সভাপতি সম্রাট মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘যানজট সৃষ্টির কারণে এখানে এসে আসতে বিলম্ব হয়। ও বিলম্বের কারণে চামড়ার ফিনিশটা একটু নষ্ট হয়ে যায়। যদি আমাদের সিটিতে কোল্ড স্টোরেজ ঘর করা হয় তাহলে আমাদের জন্য অনেক উপকার হবে।’

চামড়া সংরক্ষণে সহায়তা দিতে গত বছরের মতো এবারও মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডগুলোর জন্য বিনামূল্যে লবণ বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় বরাদ্দ দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ এক হাজার ৫ টন লবণ। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, শুধু লবণ সরবরাহ করলেই হবে না। মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ, পরিবহন এবং ট্যানারিতে বিক্রি—পুরো প্রক্রিয়ায় তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

বৃহত্তর চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক মো. ইউনুস বলেন, কাঁচা চামাড়া যদি আমরা কেনার পরে ওনারা রাখার ব্যবস্থা করে, ওনাদের মারফতে বিক্রি করে, তাহলে দিন দিন ব্যবসায়ী বাড়বে, এ দেশের সম্পদটা নষ্ট হবে না।’

সংশ্লিষ্টদের মতে, মাঠপর্যায়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি পুরোপুরি চালু এবং ট্যানারিগুলোর এলডব্লিউজি সনদ অর্জন নিশ্চিত না হলে রপ্তানি আয়ের উচ্চাভিলাষ বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © ajkerdorpon.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com