ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া, আর অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের আশা করা—এই দুই নীতি একসঙ্গে চলতে পারে না। ভারতের নীতিনির্ধারকদের বিষয়টি অনুধাবন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতেই কেবল প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, শেখ হাসিনা একজন দণ্ডিত এবং মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে দেশে মৃত্যুদণ্ডের রায়সহ অনেক মামলা চলমান। এমন একজন ব্যক্তিকে ভারত বিশ্বমঞ্চে কথা বলার সুযোগ দিয়ে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের অস্থিরতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করেই প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় অন্তর্বর্তী সরকার।
তারেক রহমানের সঙ্গে শেখ হাসিনার অবস্থানের পার্থক্য তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামের পথেই তারেক রহমান নির্বাসিত হয়েছেন, যা শেখ হাসিনার পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় নয়। পরিশেষে তিনি জানান, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়ে এবং তার নেতিবাচক বক্তব্যের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারত সরকারের কাছে যথাযথ প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।